Sunday, August 30, 2020

The Wall

The Wall

 Subhasis Dutta

প্রাচীর 

শুভাশিস দত্ত

 Email: sduttamail@gmail.com
 Mobile & Whasapp : 9434110862

© SUBHASIS DUTTA


     অনেক দিন  আগের কথা আমার ছোট বেলায় আমাদের বাবা আমাদের বাড়ীর পাশে অনেকটা জায়গা নিলেন আমাদের অন্য একটা  জায়গা দ্বিগুন পরিমান আরো ভাল জায়গার বিনিময়ে । কারন একটাই এই জায়গাটা আমাদের বাড়ীর লাগোয়া । সে তো গেল জায়গা এবার সেই জায়গাটা ঘিরতে হবে । প্রথমে কলমি খাড়া র বেড়া তারপর কাঁটা গাছের বেড়া তারপর মাটির প্রাচীর । কিন্তু কোনটাই টিকল না । বর্তমানে ইটের প্রাচীর । যেটা এখন টিকে আছে । আমাদের মনে মনে খুবই গাছের সখ । কাজে এতোটা করে ওঠা হয় না। গাছ লাগাই । আরো পারিপার্শ্বিক , শারীরিক, মানসিক, অর্থনৈতিক কারনে নিরলস যত্ন বা পরিচর্যা হয় না । সেই কারনে বাগানটা সেরকম হয়নি। নিজে নিয়মে বেড়ে ওঠা নিম, সিমুল , শিশু ও বেশ কিছু আগাছা । ফল ফুলের গাছ সেরকম কিছু নেই । থাকলে উৎপাত হবে । এত কিছু বলতে গিয়ে একটা কথা বলতে ভুলে গেছি । সেই প্রথম থেকে ছাগলের উৎপাত সমানে আছে । কিছু করার নেই , যখন বেড়া ছিল তখন বেড়ার ফাঁক দিয়ে , যখন প্রাচীর হয়েছে তখন প্রাচীরের উপরদিয়ে ওদিকে কনো উঁচু জায়গা পেলে তো কাথাই নেই , ছাগলের উৎপাত সমানে চলছে । বর্তমানে ঐ প্রাচীরের দুটো লোহার দরজা  চুরি কারনে ছাগলের উৎপাত সমানে চলছে এবং হয়তো চলবে ।

       সেই আমাদের প্রাচীর সমস্যা আবার কবিগুরুর  শান্তিনিকেতনে । যেখানে একটা মেলার মাঠ (আগে অন্য স্থানে অনুষ্ঠিত হত)  । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এখানে একটা মেলা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । পৌষ মেলা ।  সেই মেলা তো যে সে মেলা নয় । সেই মেলা আমার মনে হয় যথেষ্ট চিন্তা ভাবনা করে করেছিলেন । যেমন নবান্নের পরে যাতে সাধারনের হাতে টাকা থাকে । শীতকালে যাতে বিদেশীদের সুবিধা হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষের মেলা । চাষি , কামার, কুমোর  ইত্যাদি  বর্গ ও বিভিন্ন ক্ষেত্রের যেমন বাঁশ , বেত , বাটিক , কাঁথা ইত্যাদির  শিল্পিদের বাজার ।   এখানে অন্য একটা কথা না বলে পারছি না । এই মেলার ঠিক একমাস পরে আরো প্রান্তিক মানুষের জন্য মাঘ মেলা । সেই সব বিষয় বিরেচনা করে আমার মনে হয় এই পৌষ মেলার গুরুত্ব অপরিসীম ।    

        এখন প্রশ্ন কি এমন হল এখন প্রাচীর দিতে হবে । কর্তৃপক্ষ বলল ওখানে খারাপ কাজ হয় আর কিছু ব্যাবসাদার বিশ্বভারতীর জায়গা দখল করে ব্যাবসা করছে বেআইনি ভাবে ।  আর এক দল সঙ্গে সঙ্গে রে রে করে তেড়ে এল প্রাচীর দেওয়া যাবে না । লুটপাট চালাও সব ভন্ড করে দাও । যা আমাদের নয় তা আর কারো নয় । আর এক দল বল্লো এই গরমে রবী ঠাকুর বাতাস পাবেনা গরমে কস্ট পাবে । সুতরাং প্রাচীর দেওয়া যাবে না ।

         এবার আসি কেন ? কারন সব দখল করে নিতে হবে । আয় বাড়াতে হবে । না হলে বিশ্বভারতি চলবে কি করে । কেন্দ্রীয় অনুদান তো দিন দিন কমে আসছে  । সরকার তো সবাই কে স্বনির্ভর হতে বলছে গ্রাম পঞ্চায়েত, পৌরসভা  থেকে রাজ্য , প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়।  আয় যে কম বা সংকচিত হছে তার প্রমান । কখন পে কমিশন চালু করতে দেরি , কার ইনক্রিমেন্ট বন্ধ  তো তাকে র্কোটে যেতে হছে , ইত্যাদি  আবেদন পত্র , ভর্তি ফি , হোস্টেল খরচ লাগাম ছাড়া ভাবে বৃদ্ধি । সেমিনার খরচ বৃদ্ধি । আর গত বছরের মেলার স্টল খরচের কথা সবার জানা । আয় বাড়াতে হলে এছাড়া আর উপায় কি ! রবী ঠাকুর বাতাস পেল কি পেল না না ভেবে বহিরাগত করে দাও ( আর যায় হোক জোড়াসাঁকো তো বোলপুরের কোন ওয়ার্ড নয় ) । 

             এবার আসি যারা রে রে করে তেড়ে এল প্রাচীর দেওয়া যাবে না বোলে  তাদের কথায় ।  যা তাদের নয় তা আর কারো নয় । লুটপাট চালাও সব ভন্ড করে দাও । করে খাও । কি করা যাবে । লড়াই করে সব দখল করতে হবে । কারন তাদের তো পেট ভরাতে হবে । আর শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকলে এসব কি সুষ্ঠ ভাবে হবে । এরা কি অস্তিত্বহীন প্রশাসন প্রমান করবেই । 

              সবশেষে আসি আশ্রমিক , ছাত্র-ছাত্রী , শিক্ষক , গবেষক , বুদ্ধিজীবী ইত্যাদি দের কথায় । এদের আবেগ আছে । বুদ্ধি আছে । কিন্তু সকলের দূরদর্শিতা নেই । এই পর্যন্ত বললে মনে হবে  দূরদর্শিতা নেই মানে তো বুদ্ধি ও নেই । না তা নয় বুদ্ধি আছে । সকলের চেতনা নেই । থাকলে এরা দেশ গঠনের কাজে এগিয়ে আসতো । অন্তত বাধাদিত না , " রাজনীতি খুব খারাপ দূরে থেকো -পড়াশোনা নিয়ে  থাক " । সেই রকম তারা রবী ঠাকুর বাতাস পাবেনা গরমে কস্ট পাবে বলে নিজেরাও আবেগে ভাসে । আর কেই কেই পাখা বন্ধ করে সহমর্মী হয় । শান্তি পূর্ন ঝামেলা ( সোনার পাথর বাটি ) করতে পছন্দ করে । সেই রকম প্রাচীর চাই না বলে ভাবমূর্তি বজায় রাখল ।

     তাহলে কি হলে ভাল হয়  । প্রাচীর হলে । ভাল কথা । কিছু আয় বাড়তে পারে । আর আমাদের বাড়ীর মত প্রাচীর  হলেই বা ছাগল তো ঢুকবেই কখন প্রাচীর টোপকে কখন গেট চুরি করে । আর বিশ্বভারতীর খোলামেলা পরিবেশের ভাবমূর্তি নস্ট করে প্রাচীর করতে হবে । এখানে একটা কথা বলে রাখা ভাল ববীন্দ্রনাথ কেন প্রাচীর দেন নি আমার মনে হয় সকলের মাঝে মিলন চেয়েছেন , ভয়ের বাতাবরন চান নি । তাহলে প্রাচীর করে লাভ কি ? শুধু আয় ।

      তাহলে প্রাচীর  না হলেই মঙ্গল । না সেটাও নয় । প্রাচীর দিয়ে কি মেলার মাঠে যদি কিছু খারাপ কাজ হয় সেটা আটকে যাবে । মোটেই না । হয়ত কিছুটা কমতে পারে । অন্য জায়গায় হবে । তার ফলাফল যেখানেই হোক আমাদের ই ভুগতে হবে । হয়ত প্রাচীরের ভিতর মোটা টাকার বিনিময়ে সুবন্দোবস্ত থাকতে পারে ।  সময় ই বলবে কোনটা ভাল ।

        আমার মনে হয় প্রাচীর দেওয়া বা না দেওয়া আমাদের নতুন সূর্য দেখাবে না । এখন বিশ্বভারতী উচিৎ প্রাচীর না দিয়ে অন্য জলন্ত সম্যসা সমাধান মননিবেশ করা । আসুন আমরাও এগিয়ে আসি ।  

       

আপনাদের মুল্যবান মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকলাম । 

সমাপ্ত ।